শিরোনাম
মিলন লস্কর, শিলচর (ভারত) : | ০১:১৫ পিএম, ২০২৬-০৭-০৫
বরাক উপত্যকার মাটি যুগে যুগে বহু গুণী মানুষের জন্ম দিয়েছে। সেই ধারারই এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলাম — যিনি তাঁর কৌশলগত চিন্তাশক্তি, বহুমাত্রিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও নীতি-নির্ধারণী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ব শিক্ষাঙ্গনে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজি (আইএমটি), হায়দ্রাবাদ-এর ডিরেক্টর এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স -এর ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কাছাড় জেলার এই কৃতী সন্তান শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সময়োপযোগী সুযোগকে সার্থকভাবে কাজে লাগানোর দক্ষতা ও অধ্যবসায়ের স্বাক্ষর রেখেছেন। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন (এলএলবি) ও শিক্ষা (বি.এড.) বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা।
জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকারের প্রমাণ মেলে এই ঘটনায় যে, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরিজীবনে প্রবেশ করলেও তিনি কখনো শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আত্মোন্নয়নের সাধনা সমানভাবে অব্যাহত রেখেছেন। ডন বস্কো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি সামাজিক কাজ (সোসিয়াল ওয়ার্ক ) বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম, আই.কে.জি. পাঞ্জাব টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ এবং কুমায়ুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে ডি.লিট. ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর ডি.লিট. গবেষণার বিষয় ছিল— "ইন্টারনেটের যুগে ইংরেজি ভাষার ভবিষ্যৎ"।
শুধু একাডেমিক ডিগ্রিতেই নয়, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বার্ন-এর আইপিডিইটি এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের গ্লোকল প্রোগ্রামেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
কর্মজীবনে অধ্যাপক বাহারুল ইসলাম ভারতের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভারতীয় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান (আইআইএম), কাশীপুরে অধ্যাপক, ডিন (একাডেমিকস) এবং সেন্টার ফর পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট গেটওয়ে-এর দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক উন্নয়ন গেটওয়ের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পদচারণা সমানভাবে উজ্জ্বল। তিনি জাতিসংঘের আফ্রিকা অর্থনৈতিক কমিশন ( ইউএনইসিএ)-এর ই-গভর্ন্যান্স ও আইসিটি নীতি বিষয়ক পরামর্শদাতা , আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, মরিশাস সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং রুয়ান্ডার কিগালি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া ভারতের জাতীয় শিক্ষানুসন্ধান ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (এনসিইআরটি)-তেও রিডার (বর্তমান সহযোগী অধ্যাপক) হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয় ওয়েস্ট শিলচর কলেজে, তারপর কিছুদিন গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিফু সরকারী কলেজে পড়ানোর পর শেষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি)-তে মানবিকী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
আন্তর্জাতিক মহলের মূল্যায়ন:
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা অধ্যাপক বাহারুল ইসলামের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রুয়ান্ডার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক সিলাস লাকাবাম্বা মন্তব্য করেন,“শিক্ষা ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ড. কে. এম. বাহারুল ইসলামের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।” জাতিসংঘের আফ্রিকা অর্থনৈতিক কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, “ড. ইসলাম জননীতি, টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি নীতি প্রণয়নে অসাধারণ সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বিপুল সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছেন।” মরিশাস সরকারের ন্যাশনাল কম্পিউটার বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড্যান ফাউগু তাঁর বিশ্লেষণী দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন,“জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ, তথ্যের নির্ভুল মূল্যায়ন এবং কার্যকর সমাধান নির্ধারণে ড. ইসলামের সক্ষমতা অসাধারণ। তিনি সর্বদা ইতিবাচক ও পেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজ করেন।” গাম্বিয়া সরকারের আইসিটি পরিচালক এব্রিমা জোব বলেন-“তিনি সর্বদা উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন এবং প্রতিটি দায়িত্বে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেন।”
আন্তর্জাতিক সম্মাননা ও ফেলোশিপ :
অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলামের গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও জননীতি বিষয়ে তাঁর অসামান্য অবদান দেশ-বিদেশে ব্যাপক স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেই স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ, বৃত্তি ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ২০২০ সালে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি-এর ফেলো (FRAS) নির্বাচিত হওয়া। এর আগে ২০১৬–২০১৮ সালে তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (IIAS), শিমলা-এর ফেলো হিসেবে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ ও জননীতি বিষয়ক তাঁর আগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫–২০১৬ সালে তিনি কাইসিড ডায়ালগ সেন্টার, লিসবন-এর আন্তর্জাতিক ফেলো নির্বাচিত হন। একই সময় থেকে তিনি ওয়াশিংটনে ইউএস-ইন্ডিয়া পলিসি ইন্সটিটিউট-এর সম্মানসূচক ফেলো হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব বার্ন-এর ফেলোশিপ লাভ তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা-অভিযাত্রায় আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল সংযোজন। এরও আগে, ২০১৩-২০১৪ সালে তিনি হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর মর্যাদাপূর্ণ অ্যান্ড্রু টাউল এন্ডাউমেন্ট ফান্ড বৃত্তি অর্জন করেন। ২০০৩ ও ২০০৭ সালে তাঁর উদ্ভাবনী উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্বব্যাংক তাঁকে "ডেভেলপমেন্ট মার্কেটপ্লেস" স্বীকৃতি সনদে সম্মানিত করে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার পরিসরে তাঁর যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয় ২০০৪–২০০৬ সালে, যখন তিনি ইউকে টেলিকম একাডেমি ফেলোশিপ লাভ করেন। এই ফেলোশিপের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে স্নাতকোত্তর (এলএলএম) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ লাভ করেন। সুযোগ পান। জ্ঞানকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করার এই অদম্য আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে জাতীয় পরিসর অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন স্বীকৃত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নীতিবিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গবেষণা ও প্রকাশনা:
অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলামের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার পরিধি যেমন বিস্তৃত, তেমনি গভীর। তাঁর নিজস্ব রচিত ও যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ১২টি গবেষণাগ্রন্থ। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচিত গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য তিনি একাধিক নীতিনির্ধারণী গবেষণা প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছেন, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ইউএনএস্কেপ)-এর জন্য প্রণীত ভারত–বাংলাদেশ এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে এবং ফাইবার-অপটিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন ও স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তবে তাঁর গবেষণার পরিধি কেবল আন্তর্জাতিক জননীতি বা উন্নয়ন গবেষণায় সীমাবদ্ধ নয়। জন্মভূমির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতিও তাঁর আগ্রহ সবসময়ই সমান গভীর। আসামের চর-চাপরির সাহিত্য, বরাক উপত্যকার কবিগান এবং সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য গবেষণা প্রবন্ধ এবং বই লিখেছেন। বিশ্বপরিসরে প্রতিষ্ঠিত হয়েও তিনি কখনোই নিজের শিকড়কে বিস্মৃত হননি; বরং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জন্মমাটির ইতিহাস, লোকঐতিহ্য ও ভাষাকে গবেষণার মাধ্যমে নতুনভাবে তুলে ধরার আন্তরিক প্রয়াস চালিয়ে গেছেন। তাঁর কর্মজীবন যেন প্রমাণ করে—যে মানুষ যত দূরেই যাক না কেন, তার শিকড়ের সঙ্গে মানসিক সংযোগই তাকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করে।
প্রতিকূলতার দিনগুলি
তবে তাঁর সাফল্যের এই দীর্ঘ যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হলেও উচ্চমাধ্যমিকে (১৯৮৪-৮৬) গুরুচরণ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তিনি জীবনের অন্যতম কঠিন সময়ের মুখোমুখি হন। পড়াশোনার প্রতি মনোযোগের পরিবর্তে বন্ধু-বান্ধব, বিতর্ক, ছাত্ররাজনীতি এবং নানা কর্মকান্ডে তিনি ক্রমেই বেশি জড়িয়ে পড়েন। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পারিবারিক পরিবর্তন। তাঁর পিতা অধ্যাপক মোঃ ফখরুল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসেবে অন্য জেলায় যোগ দেওয়ায় প্রতিদিনের কঠোর তত্ত্বাবধান আর আগের মতো ছিল না। কৈশোরের আবেগে গা ভাসিয়ে মুহূর্তের উচ্ছ্বাসের মূল্য দিতে হয় পড়াশোনায়।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিতে অকৃতকার্য হলেও জীববিজ্ঞান চতুর্থ বিষয় থাকায় পরীক্ষায় উতরে যান। জীবনের এই ঘটনাই পরে তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পিতা তাঁকে বকাঝকা না করে শুধু বলেছিলেন—“যা ভালো লাগে, তাই পড়ো। কিন্তু মনে রেখো, এই ফলাফলের দাগ মুছতে হলে এখন থেকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে।” সেই কথাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানোর প্রেরণা। এরপর তিনি বিজ্ঞানের পথ ছেড়ে কলা ও সাহিত্যের জগতে পা রাখেন। কাছাড় কলেজে ইংরেজি অনার্সে ভর্তি হলেও পুরোনো ছাত্ররাজনীতি তাঁর পিছু ছাড়েনি। একসময় মনে হয় আর ফিরে দাড়াতে পারবেন না।
উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলের পর মা তাঁকে পরামর্শ দেন শিলচরের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন এক শিক্ষাঙ্গনে নিজের জীবনকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে। সেই ভাবনা থেকেই আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে খুব কম নম্বর পাওয়ায় নিয়মিত ভর্তি-তালিকার কোনো পর্যায়েই তাঁর নাম ওঠেনি। তবু তিনি আশা ছাড়েননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃরাজ্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিতর্কে বিশেষ কৃতিত্বের ভিত্তিতে সংরক্ষিত দুটি আসন ছিল। নিজের বিতর্ক দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে তিনি সেই সুযোগের জন্য আবেদন করেন। ভর্তির জন্য আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কে শেষ পর্যন্ত সেই দুটি বিশেষ আসনের একটিতে মনোনীত হয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিরল সুযোগ লাভ করেন। তার জীবনের এই অধ্যায় আবারও প্রমাণ করে, যেখানে প্রচলিত পথ বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে কোন বিশেষ দক্ষতা প্রায়ই নতুন পথের দুয়ার খুলে দেয়। গুরুচরণ কলেজে অধ্যাপক পার্থ সারথি চন্দ এবং অধ্যাপক কমলেন্দু ভট্টাচার্যের উৎসাহ ও প্রেরণায় যে বিতর্কচর্চার হাতেখড়ি হয়েছিল, জীবনের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে সেই "অন্য শিক্ষা"ই তাঁর সবচেয়ে বড় সহায় হয়ে ওঠে।
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন চলাকালেই অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলামের জীবনে নেমে আসে আরেকটি বড় আঘাত। ১৯৯১ সালে উনার পিতার আকস্মিক মৃত্যু তাঁর পরিবারকে গভীর শোকের পাশাপাশি অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। সেই সংকটের সময় তাঁর উচ্চশিক্ষা অব্যাহত থাকবে কি না, সেই প্রশ্নই তখন বড় হয়ে দেখা দেয়। সে সময় একটি বৃত্তির খবর জানতে পারেন, যা মূলত চিকিৎসাবিজ্ঞান (মেডিকেল) শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। কলা বিভাগের ছাত্র হয়েও তিনি সাহস করে সেই বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। অনেকের কাছেই তা ছিল প্রায় অসম্ভব এক প্রচেষ্টা। ব্যাংক অব বরোদার আলীগড় শাখার তৎকালীন কর্মকর্তা অনিল গুপ্ত তাঁর সংগ্রামী মনোভাব দেখে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই আবেদন ব্যাংক অব বরোদার প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তে অধ্যাপক বাহারুল ইসলাম সেই বৃত্তি লাভ করেন। এই সহায়তাই তাঁর উচ্চশিক্ষার পথকে আবারও সুগম করে দেয়। এই ঘটনা তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে — কঠিন পরিস্থিতি মানুষের পথ রুদ্ধ করে না; সাহস এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অনেক সময় অসম্ভব বলেই মনে হওয়া দরজাগুলোও খুলে যায়। এই ঘটনাটি যেন তাঁর পিতার আজীবনের একটি শিক্ষাকেই নতুন করে সত্য প্রমাণ করেছিল। পিতা প্রায়ই বলতেন, "সুযোগ কখন, কোন রূপে, কার জীবনে এসে দাঁড়াবে — তা আগে থেকে কেউ জানে না। তাই জীবনের প্রতিটি সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিতে হয় এবং প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য সবসময় চেষ্টা করতে হয়।" এই শিক্ষাই তাঁকে কখনো সম্ভাবনার দরজায় কড়া নাড়তে দ্বিধা করতে শেখায়নি। কলা বিভাগের ছাত্র হয়েও চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য সংরক্ষিত সেই বৃত্তিতে আবেদন করার সাহস দেখিয়েছিলেন তিনি। এমন ‘দুঃসাহস’ দেখে সহপাঠীদের অনেকেই হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন, অনেক সময় যে পথকে অসম্ভব বলে মনে হয়, সেই পথেই এগিয়ে যাওয়ার সাহসই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি রচনা করে।
জীবনের এই শিক্ষা তাঁকে পরবর্তী সময়েও বারবার সাহস জুগিয়েছে। জাতিসংঘে কর্মরত অবস্থায় তিনি যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএল.এম. পড়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ফেলোশিপের আবেদন করেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতও হন। কিন্তু পরে কর্মকর্তাদের নজরে আসে যে বৃত্তিটি মূলত আফ্রিকার জন্য নির্ধারিত। ফলে ভারতীয় হিসাবে তাঁর নির্বাচিত হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেকের কাছেই বিষয়টির এখানেই সমাপ্তি ঘটার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। তাঁর কাজ, যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আফ্রিকার দুটি দেশ – ঘানা এবং গাম্বিয়া - তাঁর সেই আবেদনকে সমর্থন জানায়। সেই ব্যতিক্রমী সমর্থনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় তাঁকে ফেলোশিপটি প্রদান করে। ফলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে সফলভাবে এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন করেন। এই ঘটনাও তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরে—অনেক সময় অসম্ভব বলে মনে হওয়া সুযোগও বাস্তবে রূপ নেয়, যদি নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া যায়।
এ ধরনের ঘটনা তাঁর জীবনে একবার নয়, বারবার ফিরে এসেছে। প্রতিবারই তিনি প্রতিবন্ধকতাকে বাধা হিসেবে নয়, আত্মোন্নয়নের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কাশীপুরে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও ‘এমবিএ’ ডিগ্রি না থাকায় সহকর্মীরা যেন তাঁকে অন্য চোখে দেখেন। বিষয়টি তাঁকে নিরুৎসাহিত করেনি; বরং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রেরণা জুগিয়েছিল। তখন পূর্ণকালীন শিক্ষকতা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি দুবছর ধরে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে কাশীপুর থেকে মোরাদাবাদে যাতায়াত করে এমবিএ পাঠক্রমে অংশ নিতেন। কঠোর পরিশ্রম, সময়ের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং অদম্য অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে শেখার কোনো শেষ নেই। নতুন কিছু শেখার জন্য বয়স, পদ বা দৈনন্দিন ব্যস্ততা কখনো বাধা হতে পারে না। বরং একজন প্রকৃত শিক্ষার্থীর পরিচয় হলো — তিনি প্রতিটি সীমাবদ্ধতাকে শেখার নতুন সুযোগে পরিণত করতে জানেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন সারা বিশ্ব স্থবির, চারদিকে অনিশ্চয়তা আর হতাশার আবহ, তখনও অধ্যাপক বাহারুল ইসলাম ভিন্ন পথ বেছে নেন। যখন চারদিকে ছিল অনিশ্চয়তা, ভয় ও হতাশা, ঠিক সেই সময়কেই তিনি জ্ঞানচর্চার নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন। নতুন উদ্যমে উচ্চতর গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। সেই দীর্ঘ গবেষণা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ ২০২৩ সালে কুমায়ূন বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর থিসিসকে মূল্যায়ন করে মর্যাদাপূর্ণ ডি.লিট. (ডক্টর অব লিটারেচার) ডিগ্রিতে ভূষিত করে। মহামারির অন্ধকার সময়ে অর্জিত এই সাফল্য তাঁর জীবনদর্শনেরই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ — প্রতিকূল সময়কে তিনি কখনো বাধা হিসেবে নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে দেখেছেন।
ব্যক্তিজীবন: শখ, স্বপ্ন ও অভিযাত্রা
শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রশাসক পরিচয়ের বাইরে অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলামের ব্যক্তিজীবনও বহুমাত্রিক। কৈশোর থেকেই তাঁর অন্যতম বড় নেশা ছিল সিনেমা। স্কুলজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে কখনো কখনো স্কুল ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখার সেই আকর্ষণ পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রকে কেবল বিনোদন নয়, সমাজ, সংস্কৃতি ও ব্যবসার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উপলব্ধি করতে শেখায়। পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থাপনা শিক্ষায় তিনি চলচ্চিত্রকে একটি কার্যকর শিক্ষণ-উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং সিনেমার ব্যবসা নিয়ে আইআইএমের এক জনপ্রিয় কোর্সে চালু করেন।
শৈশবে পিতার কাছ থেকে তিনি আরেকটি মূল্যবান শিক্ষা লাভ করেন। একদিন বাবার সরকারি গাড়ি চালাতে গিয়ে উনাকে অনেক বকাঝকা শুনতে হয়েছিল। তবে সেই বকাঝকার মধ্যেও ছিল এক গভীর প্রেরণা। তাঁর পিতা বলেছিলেন, "সরকারি গাড়ি নয়, চেষ্টা করো—একদিন যেন নিজের গাড়ি হয়। তখন যত খুশি চালিয়ো।" সেই কথাটি তিনি আজীবন মনে রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজের প্রথম গাড়ি কিনতে তিনি আইজল যান এবং আগে কোন গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকলেও এক ড্রাইভার কে সঙ্গী করে সেই দুর্গম পাহাড়ী রাস্তায় নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। প্রচলিত নিয়মের গণ্ডির বাইরে গিয়ে সম্ভাবনার শেষ সীমা পর্যন্ত চেষ্টা করার সাহসই ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অনেকের কাছে এটি হতে পারে এক অবিবেচক দুঃসাহস বা অবিমৃশ্যকারিতা; কিন্তু তাঁর কাছে ছিল অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃঢ় প্রত্যয়। সেই দীর্ঘ পথচলা ছিল শুধু একটি গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নয়; ছিল এক পিতার স্বপ্ন পূরণের আবেগঘন মুহূর্ত।
দীর্ঘপথে গাড়ি চালানো আজও তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ। দেশ-বিদেশে সড়কপথে ভ্রমণ এবং দীর্ঘ দূরত্বের ড্রাইভিং তাঁকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। এ পর্যন্ত তিনি ১৮টি দেশে এডভেঞ্চার ড্রাইভিং করেছেন। এর মধ্যে ২০০৮ সালে থাইল্যান্ড থেকে ভিয়েতনাম পর্যন্ত আন্তঃদেশীয় দীর্ঘ সড়কযাত্রা এবং ভারতের দুর্গম লেহ–লাদাখ অঞ্চলে ড্রাইভিং তাঁর স্মরণীয় অভিজ্ঞতার অন্যতম। তাঁর কাছে ড্রাইভিং কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানোর উপায় নয়; বরং নতুন দেশ, মানুষ, সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে কাছ থেকে জানার এক অনন্য অভিযাত্রা। এডভেঞ্চার ড্রাইভিং এর পাশাপাশি ‘বানজি জাম্পিং’ তাঁর অন্যতম শখ। পেরু থেকে আলাস্কা পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি নানা রোমাঞ্চকর অভিযানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বহু উচ্চ পার্বত্য ‘বানজি জাম্পিং’ এর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলামের জীবন কেবল একজন সফল শিক্ষাবিদ বা গবেষকের জীবনকাহিনি নয়; এটি অধ্যবসায়, জ্ঞানসাধনা, সততা এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণার গল্প। বরাক উপত্যকার এক প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে তিনি শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক জননীতির অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তাঁর এই পথচলা প্রমাণ করে — নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং অবিচল সাধনা থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কখনোই বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাঁর অর্জন শুধু উত্তর-পূর্ব ভারতের নয়, সমগ্র ভারতের শিক্ষাজগতের জন্য গর্বের বিষয়।
তবু একটি আক্ষেপ থেকেই যায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত এই কৃতী সন্তানের প্রতি তাঁর জন্মভূমি বরাক উপত্যকার পক্ষ থেকে এখনও সেই পরিসরের নাগরিক স্বীকৃতি বা আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। অথচ যে সমাজ তার কৃতী সন্তানদের সম্মান জানায়, সেই সমাজই আগামী প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সাহস জোগায়। তাই সময়ের দাবি, বরাক উপত্যকা যেন তার এই বিশ্ববরেণ্য শিক্ষাবিদকে প্রাপ্য মর্যাদায় সম্মানিত করে। কারণ, অধ্যাপক কে. এম. বাহারুল ইসলামকে সম্মান জানানো মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; বরং বরাক উপত্যকার শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের গৌরবকেই সম্মানিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : আলেয়া মান্নান প্রিয়, তুমি একটি বার ভালোবেসে যেও। ব্যস্ততার পরে একবার অবসর করে আসিও...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : আবদুল্লাহ মজুমদার ডিজিটাল যুগে একটি ভিডিও কখনো কখনো হাজার বক্তৃতার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। কয়...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : সমকালীন বাংলা কবিতায় এমন কিছু কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যেগুলো কেবল কবিতার সংকলন নয়; বরং সময়, স...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : ইতিহাসে কিছু মানুষ জন্ম নেন একটি দেশকে বদলে দিতে, আবার কিছু মানুষ তাঁদের জীবন ও আদর্শ দিয়ে সমগ্র ব...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একসময় একটি চাকরি মানেই ছিল একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, স্বস্তি ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। মাস ...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে যেমন প্রকাশ করে, তেমনি মানুষের মানবিকতা, রাষ্ট্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited